ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ ‘গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে সিইসি নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আজকে গণতান্ত্রায়নের ট্রেনে উঠে গেছি ইনশাল্লাহ। আমি ওয়াদা করেছিলাম, ফেস্টিভ মোডে আমরা একটা ইলেকশন জাতিকে উপহার দিব।
১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ভোটের হার ৩২.৮৮ শতাংশ: ইসি সচিব
“আপনার দেখেছেন এই কয়দিনে ঈদের দিনের মত ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহার মত মানুষ ট্রেনে বাসে, লঞ্চে, গ্রামেগঞ্জে চলে গেছে। আমি আমার নিজের গ্রামে এবং বিভিন্ন জায়গায় আমি কথা বলেছি, গ্রামেগঞ্জে মানুষ উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছে।”
নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, “আমরা জাতিকে যে ওয়াদা দিয়েছিলাম, একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেব এবং সেই লক্ষ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আমরা বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি। সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা ইনশআল্লাহ।”
এ দেশে আর কোনো ‘পাতানো নির্বাচন হবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমরা একটা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। আমার পক্ষে না, আবার কারো বিপক্ষেও না।”
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি ভোটকেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াত নেতার একসঙ্গে একসঙ্গে কথা বলার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত ঠাকুরগাঁওয়ে কেন্দ্রের মাঠে জামাতের একজন লিডার পাশে একজন বিএনপির লিডার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছে; হাসিখুশি কথা বলছে এটাই তো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।
“আমরা চাই বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের ট্রেনে উঠে গেল এই ট্রেন ইনশাল্লাহ গন্তব্যস্থলে পৌঁছাবে আপনাদের সবার সহযোগিতায়। আপনারা জানেন ২০২৬ সালে সারা বিশ্বে সবচাইতে বড় একটা নির্বাচন দিচ্ছে বাংলাদেশ। এত বড় নির্বাচন আর এ বছরে কোথাও হয় নাই।”
আগের দিন বিদেশি সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সিইসি বলেন, “গতকাল দিনের বেলায় যে বিদেশি অবজারভার এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করেছি।বিভিন্ন দেশের চিফ ইলেকশন কমিশনাররা আমার সাথে দেখা করেছেন।
“আমি তাদের সাথে কথা বলেছি, তারা অত্যন্ত আনন্দিত আমাদের অ্যারেঞ্জমেন্ট দেখে, আপনারা ক্যান ইউ ইমাজিন আমার প্রায় ১৭ লক্ষ লোক কাজ করছে। এই ইলেকশনটা কন্ডাক্ট করার জন্য সাড়ে ৯ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রায় আট লক্ষ হচ্ছে যে পোল কালেক্টর যারা বুথ কালেকশন করবেন; এই সাড়ে ১৭ লক্ষ লোককে এক সুতোই গাঁথা এটা যে একটা কত কঠিন কাজ আপনারা একবার একটু কল্পনা করে দেখুন।
“বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা এখানে আছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আছে বিভিন্ন সংগঠনের লোকজন আছে সবাইকে নিয়ে এবং সবাইকে প্রশিক্ষিত করে ট্রেনিং দিয়ে ইলেকশন ওরিয়েন্টেড ট্রেনিং দিয়ে সবাইকে এই যে কাজে লাগানো হয়েছে এই যে একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ আমার মনে হয়, এর চাইতে বড় কোঅর্ডিনেশনের কাজ আর নাই।”
সিইসি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এসেছি। আমরা জানিনা সামনে আরো কী চ্যালেঞ্জ আসবে। ইনশাল্লাহ আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে আমরা সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করব। এবং বাংলাদেশ যে গণতন্ত্রের পথে রওনা দিয়েছে। গণতন্ত্রের ট্রেন ইনশাল্লাহ স্টেশনে পৌঁছাবে। আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।”






























